ডিএসই সার্কিট ব্রেকার ও প্রাইস লিমিট — প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জানা দরকার
Rashed Al Mamoon
সার্কিট ব্রেকার কি?
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোনো শেয়ারের দাম হঠাৎ ১০% কমে গেলে আপনি বিক্রি করতে পারবেন না। কেন? কারণ সার্কিট ব্রেকার কাজ করে রেখেছে — আপনার টাকা বাঁচাতে।
গাড়িতে জরুরি ব্রেক থাকে, দুর্ঘটনা এড়াতে। সার্কিট ব্রেকার হলো শেয়ার বাজারের সেই জরুরি ব্রেক। যখন কোনো শেয়ারের দাম অত্যধিক ওঠানামা করে, এটি ট্রেডিং সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয় বা দামের পরিসর সীমিত করে।
প্রাইস লিমিট কি?
একটি ট্রেডিং দিনে শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ কত বাড়তে বা কমতে পারে — এই সীমাই প্রাইস লিমিট। গতকালের ক্লোজিং প্রাইস থেকে এই সীমা নির্ধারিত হয়।
দৈনিক প্রাইস লিমিট
| শেয়ারের ধরন | সর্বোচ্চ বৃদ্ধি | সর্বোচ্চ হ্রাস |
|---|---|---|
| সাধারণ শেয়ার (A/B/G) | +১০% | -১০% |
| মিউচুয়াল ফান্ড | +১০% | -১০% |
| নতুন তালিকাভুক্ত (প্রথম ৩ দিন) | +৫০% | -৫০% |
উদাহরণ: ACI শেয়ারের গতকালের ক্লোজিং প্রাইস ৳১,০০০ হলে, আজ সর্বোচ্চ ৳১,১০০ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং সর্বনিম্ন ৳৯০০ পর্যন্ত কমতে পারে। এর বাইরে দাম যেতে পারে না।
ওয়াইড প্রাইস লিমিট
কিছু ক্ষেত্রে সীমা আরও চওড়া হয়:
- বোনাস বা রাইট শেয়ার তালিকাভুক্তির পর প্রথম দিন
- কোম্পানির বড় ঘোষণার পর
- নতুন IPO-এর প্রথম ট্রেডিং দিনগুলো (৫০% লিমিট)
সার্কিট ব্রেকার কিভাবে কাজ করে?
শেয়ারের দাম যখন প্রাইস লিমিটে পৌঁছায়, তখন দুই ধরনের সার্কিট হতে পারে:
শেয়ার-লেভেল সার্কিট
একটি নির্দিষ্ট শেয়ারের দাম প্রাইস লিমিটে পৌঁছালে:
- সেই শেয়ারের ট্রেডিং ৩০ মিনিটের জন্য বন্ধ থাকে
- ৩০ মিনিট পর আবার ট্রেডিং শুরু হয়
- কিন্তু দাম প্রাইস লিমিটেই আটকে থাকে — আর বাড়তে বা কমতে পারে না
মার্কেট-লেভেল সার্কিট
পুরো মার্কেট যদি অস্বাভাবিক পতন বা উত্থানে যায়:
| ঘটনা | পদক্ষেপ |
|---|---|
| ডিএসইএক্স ৫% এর বেশি কমলে | ৩০ মিনিট ট্রেডিং বন্ধ |
| ডিএসইএক্স ১০% এর বেশি কমলে | দিনের বাকি সময় ট্রেডিং বন্ধ |
| ডিএসইএক্স ১০% এর বেশি বাড়লে | ৩০ মিনিট ট্রেডিং বন্ধ |
আপনার কেন এটি জানা দরকার
প্যানিক বিক্রি থেকে বাঁচুন: সার্কিট ব্রেকার আপনাকে ঠান্ডা মাথায় ভাবার সময় দেয়। দাম কমতে থাকলে সাথে সাথে বিক্রি না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
বিক্রি নাও পারতে পারেন: শেয়ার সার্কিটে গেলে বিক্রি করা কঠিন হয়ে যায়। ক্রেতা না থাকলে আপনার শেয়ার হাতেই থেকে যাবে। শেয়ার কেনার আগে এই ঝুঁকি মাথায় রাখুন।
নতুন IPO-এর ক্ষেত্রে সতর্ক: নতুন IPO-এর প্রথম কয়েক দিন প্রাইস লিমিট ৫০%। দাম অনেক বেশি ওঠানামা করতে পারে। এই সময় বেশি সতর্ক থাকুন।
সঠিক সময়ে অর্ডার দিন: সার্কিট থেকে বের হওয়ার পর দাম দ্রুত বদলায়। আগে থেকে লিমিট অর্ডার দিয়ে রাখুন। মার্কেট অর্ডার দিলে অপ্রত্যাশিত দামে কেনা হতে পারে।
বাস্তব উদাহরণ
শেয়ার সার্কিটে
BSCPLC শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইস ৳১৪০। পরের দিন খারাপ খবরের কারণে সবাই বিক্রি করতে চায়। ১০% প্রাইস লিমিটে = ৳১২৬। দাম ৳১২৬-এ পৌঁছালে শেয়ার সার্কিটে চলে যায়, ৩০ মিনিটের জন্য ট্রেডিং বন্ধ। যদি ক্রেতা না থাকে, আপনি বিক্রি করতে পারবেন না।
মার্কেট ক্র্যাশ
২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ এর কারণে ডিএসইএক্স ৫% এর বেশি কমে যায়। সার্কিট ব্রেকার সক্রিয় হয়ে ৩০ মিনিটের জন্য পুরো মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা ঠান্ডা মাথায় ভাবার সুযোগ পান।
সার্কিট ব্রেকার চেক করার উপায়
stock-ai.live-এ যেকোনো শেয়ারের বর্তমান দাম ও প্রাইস লিমিট দেখতে পারবেন। স্টক স্ক্রিনার থেকে আজ কোন শেয়ার সার্কিটে আছে তা ফিল্টার করে দেখুন।
শেষ কথা
সার্কিট ব্রেকার আপনার শত্রু নয় — এটি আপনার পাশে আছে। প্যানিক সেলিং থামায়, অস্বাভাবিক দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ভাবার সময় দেয়। ডিএসই-তে বিনিয়োগ করতে চাইলে প্রাইস লিমিট ও সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম জেনে রাখুন।
আরও পড়ুন: